আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানে নামছে যৌথবাহিনী। রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান যে, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে এই অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই সব বাহিনীর প্রধানদের সাথে এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিপত্র দ্রুতই জারি করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যৌথবাহিনীর এই বিশেষ অভিযানের পেছনে তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযানের প্রথম ও অন্যতম প্রধান কাজ হবে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা। নির্বাচন কমিশনারের মতে, ভোটের আগে অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করা জরুরি যাতে কোনো অপশক্তি সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে না পারে। দ্বিতীয়ত, মাঠ পর্যায়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তৃতীয়ত, প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত নির্বাচনী আচরণবিধির ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হবে; যদি আচরণবিধির বড় ধরনের কোনো লঙ্ঘন ঘটে, তবে সরাসরি যৌথবাহিনী হস্তক্ষেপ করবে, আর ছোটখাটো ব্যত্যয়গুলো নিয়মিত স্থানীয় কমিটিগুলো দেখভাল করবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক স্পর্শকাতর এলাকাগুলোকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন যে, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পুরোপুরি সিল করে দিতে হবে যাতে ক্যাম্পের ভেতরে বা বাইরে থেকে কোনো দুষ্কৃতকারী নির্বাচনী পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে। একই সাথে স্থল সীমান্ত এবং সমুদ্রপথে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে যাতে সীমানা পেরিয়ে কেউ অপরাধ সংঘটন করতে না পারে। মূলত একটি ভয়হীন ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ উপহার দেওয়াই এই যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্য। দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা হেডকোয়ার্টারকে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো তাদের নিয়মিত চেকপয়েন্ট ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে।







