আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সারা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে জমা পড়া মনোনয়নপত্রগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষে রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) কমিশন প্রাথমিক বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে। ইসির সরবরাহকৃত তথ্যানুযায়ী, দেশজুড়ে ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিপরীতে ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী সরাসরি তাদের আবেদন জমা দিয়েছিলেন। ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কমিশন মোট ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর আবেদনকে বৈধ হিসেবে ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে বিভিন্ন আইনি ও পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে।
বিভাগ বা অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা অঞ্চলে প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখানে ৩০৯ জন প্রার্থীর আবেদন বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে এবং বাতিল হয়েছে ১৩৩টি। অন্যদিকে কুমিল্লা অঞ্চলে ২৫৯ জন এবং রংপুর অঞ্চলে ২১৯ জন প্রার্থী নির্বাচনের প্রাথমিক বৈতরণী পার হতে সক্ষম হয়েছেন। ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে ১৯৯ এবং ১৯৬ জন। উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগে ১৮৫ জন এবং উপকূলীয় চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১৩৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সঠিক পাওয়া গেছে। এছাড়া বরিশাল অঞ্চলে ১৩১ জন, সিলেট অঞ্চলে ১১০ জন এবং ফরিদপুর অঞ্চলে ৯৬ জন প্রার্থীকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কমিশন।
এবারের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় একটি ভিন্নতর চিত্র দেখা গেছে বেগম খালেদা জিয়ার আসনগুলোতে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ এবং ফেনী-১ আসনের তিনটি মনোনয়নপত্র কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রাথমিক তালিকায় যাদের নাম নেই বা যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশনের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন। আপিল শুনানি শেষে প্রার্থীদের এই সংখ্যায় আরও কিছুটা রদবদল হতে পারে, যার পরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের এই তৎপরতা আসন্ন নির্বাচনের পথে দেশবাসীকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।







