হাড়কাঁপানো শীতের দাপট: জানুয়ারিতে ৫টি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিতে নামতে পারে

চলতি জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা এক নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের, যেখানে তাপমাত্রা ৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে। তবে শীতের আসল প্রকোপ টের পাওয়া যাবে বাকি এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময়, যখন দেশের কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ড নিম্নবিন্দুতে নেমে আসতে পারে। যদিও এই মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের আশঙ্কা নেই এবং নদ-নদীতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, তবুও উত্তরীয় বাতাসের প্রভাবে শীতের এই কামড় সাধারণ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

আবহাওয়ার সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকতে পারে দেশের বিস্তীর্ণ জনপদ। এর ফলে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার চিত্রে দেখা যায়, মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে। যদিও ৩ ও ৪ জানুয়ারির দিকে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ৫ ও ৬ জানুয়ারি থেকে পুনরায় তাপমাত্রার পারদ নামতে শুরু করবে। বিশেষ করে নদী অববাহিকা অঞ্চলে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকায় দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানুয়ারির এই চরম শীতের মৌসুমে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ৪ জানুয়ারি থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, ফলে শুষ্ক আবহাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও প্রকট হবে। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ৫ জানুয়ারির পর থেকে সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে আরও কমতে পারে। প্রতিদিন গড়ে ৩.৫০ থেকে ৫.৫০ ঘণ্টা সূর্যকিরণ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও কুয়াশার দাপটে দিনের বেলাতেও কনকনে শীত অনুভূত হতে পারে। তাই তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহের এই কঠিন সময় মোকাবিলায় আগাম সতর্কতাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top