বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্তিম বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী ঢাকা আজ বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রায় ৩৩টি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে প্রয়াত এই নেত্রীর প্রতি তাঁদের দেশের পক্ষে সম্মান প্রদর্শন করেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সরব উপস্থিতি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উচ্চতা এবং বিশ্বমঞ্চে তাঁর গ্রহণযোগ্যতারই এক জোরালো বহিঃপ্রকাশ। এই শোকাবহ পরিবেশে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশেষ বিমানে ঢাকা এসে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক।
সংসদ ভবন চত্বরে আজ এক বিরল কূটনৈতিক দৃশ্যের অবতারণা হয়, যা উপস্থিত সবার নজর কেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধি যথাক্রমে এস জয়শঙ্কর এবং সরদার আয়াজ সাদিক শোকের এই আবহে পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন ও কুশল বিনিময় করেন। রাজনৈতিক বৈরিতার ঊর্ধ্বে উঠে এমন সৌজন্য প্রকাশ উপস্থিত সুধীজনদের মধ্যে বিশেষ আলোচনার জন্ম দেয়। অতিথিরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করেন এবং এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। শোকের এই মুহূর্তে তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের দুজন উপদেষ্টার সঙ্গেও আলাপচারিতায় মিলিত হন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা এবং ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুংগিয়েলও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। শুধু ভিনদেশ থেকে আসা মন্ত্রী বা বিশেষ দূতরাই নন, বাংলাদেশে দায়িত্বরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রধানরাও জানাজায় শরিক হন। ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাত খালেদা জিয়ার এই চিরবিদায় অনুষ্ঠানটি যেন এক ছাদের নিচে বিশ্ব কূটনীতির এক মিলনমেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। শোকাতুর নেতাকর্মীদের ভিড়ের মাঝে বিশ্বনেতাদের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম এই নায়িকার প্রভাব কেবল দেশের সীমানার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না।







