দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফিরলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি যখন দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছান, তখন সেখানে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর প্রিয় নেতাকে নিজেদের মাঝে ফিরে পেয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণের স্পন্দন লক্ষ করা গেছে, তা ছিল চোখে পড়ার মতো।
কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে দেশের প্রতিটি নাগরিককে আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি মনে করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল একটি নতুন ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর এই বক্তব্যে কেবল রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা নয়, বরং দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের আগমণ উপলক্ষে সকাল থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় মানুষের ঢল নামে। নেতাকর্মীদের স্বাগত স্লোগান আর উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এই প্রত্যাবর্তন কেবল বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মেরুকরণের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মুহূর্তটি বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি আগামী দিনের রাজনৈতিক পথচলার জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।







