ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সারা দেশে একযোগে সর্বাত্মক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী সংলগ্ন মহাসড়ক থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই গণআন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ময়মনসিংহের টাউন হল এলাকা, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, কুমিল্লার কান্দিরপাড় এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু এলাকায় শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিচার দাবিতে স্লোগান দেন।
অবরোধের পাশাপাশি আন্দোলনের ভিন্ন ভিন্ন রূপও দেখা গেছে বিভিন্ন অঞ্চলে। খুলনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আহত জুলাই যোদ্ধারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন, অন্যদিকে রংপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভ প্রশাসনের মন্থর গতির ওপর; তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের এতদিন পার হয়ে গেলেও মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে না পারা অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশেষ করে ডিএমপি কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে কোনো আশানুরূপ বার্তা না পেয়ে এবং খুনিরা সীমান্ত পার হওয়ার তথ্যে তারা আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট বার্তা—কেবল প্রত্যক্ষ খুনি নয়, এই চক্রান্তের পেছনে থাকা পরিকল্পনাকারী ও অর্থ জোগানদাতাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চল—প্রতিটি স্থানেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। রাজশাহীর তালাইমারী মোড় এবং সিলেট নগরের চৌহাট্টা মোড়েও দীর্ঘ সময় অবরোধ চলায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে সন্ধ্যার দিকে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে অনেক স্থানেই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবুও আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হাদি হত্যার প্রকৃত বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।







