ঘন কুয়াশার কবলে দেশের প্রধান নৌপথ: পাটুরিয়া ও আরিচায় ফেরি চলাচল বন্ধ

শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান দুই নৌপথ—পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট—ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে। এর ফলে বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত থেকে এই দুই রুটে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেড়ে যায় যে নদীর সংকেত বা খুব কাছের কোনো বস্তুও দেখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সাময়িকভাবে সব ধরনের ফেরি পারাপার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এই আকস্মিক স্থবিরতার কারণে রাজধানীর সাথে দেশের একটি বড় অংশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কুয়াশার তীব্রতা ফেরি মাস্টারদের এতটাই বিভ্রান্ত করে দেয় যে চারটি বড় ফেরি মাঝপদ্মা ও যমুনা নদীতে যানবাহন ও যাত্রীদের নিয়ে আটকা পড়েছে। এই অবরুদ্ধ ফেরিগুলোর মধ্যে রয়েছে রো-রো ফেরি ভাষা শহীদ বরকত, কেরামত আলী, বিএস ডি গোলাম মাওলা এবং বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান। মাঝনদীতে কনকনে শীতের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে অবস্থান করায় ফেরিতে থাকা নারী, শিশুসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া পাটুরিয়া প্রান্তের বিভিন্ন ঘাটে শাহ পরান, খান জাহান আলী, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও কুমিল্লার মতো ফেরিগুলো নোঙর করে আছে। একইভাবে দৌলতদিয়া ও আরিচা প্রান্তেও বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এবং চিত্রাসহ অন্যান্য ফেরিগুলো অলস দাঁড়িয়ে রয়েছে।

ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উভয় ঘাটে কয়েক শ পণ্যবাহী ট্রাক, বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে আটকা পড়া শত শত যাত্রী ও যানবাহন চালকদের অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি আরিচা এরিয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কমে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ফেরি চালানো সম্ভব নয়, কারণ এতে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। কর্তৃপক্ষ পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং কুয়াশার ঘনত্ব কমে দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আটকে পড়া যানবাহন পারাপার শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে। এটি প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট একটি সাময়িক সমস্যা হলেও এর ফলে প্রতি বছরই শীতকালে এই নৌপথগুলোতে যাত্রী সাধারণকে অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top