আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম স্পষ্ট করে বলেন যে, যেহেতু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে আইনত নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশনও দলটিকে তালিকার বাইরে রেখেছে, তাই নির্বাচনী লড়াইয়ে তাদের ফেরার কোনো পথ আপাতত খোলা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন আইনপ্রণেতার একটি চিঠির প্রসঙ্গ তুললে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই চিঠিতে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু করার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রেস সচিব জানান যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই চিঠিটি এখনো দেখেননি। চিঠি প্রসঙ্গে বিস্তারিত কিছু না বললেও আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা তিনি পুনব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না এবং রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো অনুযায়ী এটি বর্তমানে অসম্ভব।
উল্লেখ্য যে, ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ১২ মে অন্তর্বর্তী সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যাবতীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছিল যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির বিরুদ্ধে চলা বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। মূলত সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশের আওতায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজকের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আবারও এটি স্পষ্ট হলো যে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা কিংবা ভোটের প্রস্তুতির চূড়ান্ত লগ্নেও আওয়ামী লীগকে নিয়ে সরকারের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।







