রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দক্ষিণাঞ্চলে এক ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারভ প্রাণ হারিয়েছেন। ক্রেমলিন সমর্থিত তদন্তকারী সংস্থাগুলো এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করেছে এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা এই সুপরিকল্পিত হামলার পেছনে ইউক্রেনীয় বিশেষ বাহিনীর সরাসরি সম্পৃক্ততার আশঙ্কা করছে। এই হত্যাকাণ্ডটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মস্কোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে, রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই কূটনৈতিক টেবিলে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন যে, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান সংলাপ অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক ছিল। যদিও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতার ঘোষণা এখনো আসেনি, তবুও এই আলোচনাকে রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আলোচনার টেবিলে শান্তির কথা চললেও সম্মুখ সমরে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে কৃষ্ণসাগর উপকূলে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় দুটি জাহাজ ও দুটি জেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উপকূলীয় একটি গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের এই পাল্টাপাল্টি লড়াই প্রমাণ করে যে, চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো পক্ষই ময়দানে একচুল ছাড় দিতে রাজি নয়। একদিকে শীর্ষ জেনারেলকে হারানো এবং অন্যদিকে ড্রোন হামলার মুখে পড়া—সব মিলিয়ে মস্কোর ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে, যা শান্তি আলোচনার গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
সূত্র- আলজাজিরা







