বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার এক শক্তিশালী রূপরেখা তুলে ধরেছেন। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন যে, দেশকে ধ্বংসের কিনারা থেকে টেনে তুলতে হলে এবং প্রকৃত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে দলমত নির্বিশেষে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাঁর মতে, কেবল বিএনপির নেতা-কর্মী নয়, বরং যারা গণতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাঁদের প্রত্যেকের কাঁধেই এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের গুরুদায়িত্ব বর্তেছে। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে সম্প্রতি প্রাণ হারানো ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। হাদিকে একজন প্রকৃত গণতন্ত্রকামী ও ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাসী অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ এবং ১৯৭১ সালের বীর সন্তানদের ত্যাগের প্রতি প্রকৃত সম্মান তখনই জানানো সম্ভব হবে, যখন আমরা দেশের মানুষের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারব।
তারেক রহমান দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে দেশবাসীকে অত্যন্ত সজাগ থাকার পরামর্শ দেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন যে, একটি চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাই উন্নয়ন ও সংস্কারের পথ মসৃণ করতে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূলমন্ত্র হিসেবে তিনি ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি দেশের বিশ কোটি মানুষের মৌলিক অধিকার তথা উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে শিক্ষকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে তিনি আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন। এছাড়াও, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজকে শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তাঁর বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠেছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, অতীতেও বিএনপি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে দেশকে উদ্ধার করে উন্নয়নের পথে নিয়ে গিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দল বদ্ধপরিকর। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তারেক রহমানের এই উন্নয়নমুখী ও সংস্কারমূলক আহ্বানকে সফল করতে রাজপথে এবং রাষ্ট্র সংস্কারে সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মূলত তারেক রহমানের এই ভাষণটি ছিল একটি অংশগ্রহণমূলক, সুশৃঙ্খল এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার শপথ এবং একই সঙ্গে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ সতর্কবার্তা।







