আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গুরুত্বপূর্ণ গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বিশেষ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই মাঠপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার তাঁর বক্তব্যে অপরাধীদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে বলেন, যারা দস্যুতা, অরাজকতা কিংবা ভোটের ময়দানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে, তাদের প্রতি কমিশন কোনো প্রকার নমনীয়তা বা মানবিকতা প্রদর্শন করবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে যাতে তারা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা সাধারণ মানুষের আবেগ বা সেন্টিমেন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের অবশ্যই কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
কমিশন মনে করে, একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো ভয়হীন এবং নিরাপদ পরিবেশ। সেই পরিবেশকে যারা সামান্যতম ব্যাহত করার চেষ্টা করবে, তাদের প্রতিহত করতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে আইনানুগ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মূলত জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সম্ভাব্য সকল ধরনের নাশকতা ও ষড়যন্ত্র রুখতেই এই অগ্রিম সক্রিয়তা। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন দেশবাসীকে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, ভোটের মাঠে কারচুপি, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ এবার রাখা হবে না।







