ইসরায়েল কর্তৃক আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা ৪৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর মরদেহে ‘নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার স্পষ্ট চিহ্ন’ পাওয়া গেছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে মরদেহগুলো গ্রহণকারী ফরেনসিক দল এবং হাসপাতাল কর্মকর্তারা এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শিকল ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার
নাসের হাসপাতালে মরদেহ গ্রহণকারী কমিশনের সদস্য সামেহ হামাদ জানান, ইসরায়েলের কারাগার থেকে আসা এই ফিলিস্তিনিদের কিছু মরদেহ তখনও শৃঙ্খলিত অবস্থায় (shackled) ছিল এবং সেগুলোতে শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন ছিল।
হামাদ বলেন, “মরদেহগুলোর কিছু হাতে ও পায়ে বাঁধা অবস্থায় এসেছে। সেগুলোর মধ্যে নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চিহ্ন বিদ্যমান।”
প্রাথমিক ফরেনসিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নিহত পুরুষদের বয়স ২৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। বেশিরভাগ মরদেহের গলায় ব্যান্ড বা দড়ির চিহ্ন ছিল। এদের মধ্যে অন্তত একজনের গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল। অধিকাংশ ব্যক্তি সাধারণ পোশাকে থাকলেও, কিছু মরদেহ সামরিক ইউনিফর্মে ছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে তারা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধা ছিলেন।
নাম জানা নেই ৪২ জনের, স্বজনদের অনিশ্চয়তা
এই মর্মান্তিক হস্তান্তরের পর মরদেহ শনাক্তকরণ নিয়ে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। হামাদ জানান, রেড ক্রস মাত্র তিনজন মৃত ব্যক্তির নাম সরবরাহ করেছে। এর ফলে, বাকি ৪২ জন বন্দীর পরিবার তাদের প্রিয়জনদের ভাগ্য জানতে না পেরে তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল মোট ৪৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর মরদেহ গাজায় ফেরত দেবে বলে জানা গিয়েছিল। তবে এর আগেও মুক্ত হওয়া ফিলিস্তিনি বন্দীরা ইসরায়েলি কারাগারে অমানবিক নির্যাতন, খাদ্য ও চিকিৎসা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন, যদিও ইসরায়েল সেই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সূত্র- আলজাজিরা







