সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সারা বিশ্বে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব বা ইসলামফোবিয়া বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার অনেক দেশে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য, এমনকি সহিংসতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ইসলামফোবিয়া শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, বরং বিশ্ব শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা ও ভীতি তৈরি করা হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থে, যা পারস্পরিক সহনশীলতা নষ্ট করছে।
কারণ ও প্রভাব
- গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন।
- অভিবাসন সংকট ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি ভুল ধারণা।
- উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডকে পুরো ইসলাম ধর্মের সাথে যুক্ত করা।
এর ফলে মুসলিম শিক্ষার্থী, প্রবাসী শ্রমিক, নারী ও সাধারণ মানুষ নানা রকম বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন।
বিশ্বজুড়ে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি ভীতি ও ঘৃণার ঘটনাবলি উদ্বেগের লক্ষণ। সাম্প্রতিক কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
ইউরোপ: একের পর এক হামলা ও প্রেতাত্মক উদাসীনতা
- ফ্রান্সে মসজিদে হত্যাকাণ্ড
দক্ষিণ ফ্রান্সের লা গ্রাঁ-কঁবে একটি মসজিদে ২৫ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মালিয়ান বংশোদ্ভূত আবুবাকার সিসে নামক এক মুসলিম বিশ্বাসীর নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। দণ্ডনীয় সহিংসতার স্বত্ত্বেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এটিকে স্বাভাবিক এক ঘটনা বলে অঙ্কিত করার চেষ্টা করেছে, আদালত বা মিডিয়াও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেয়নি—যা ইসলামফোবিয়ার শামিলতা তুলে ধরে। The Guardian - জার্মানিতে প্রতিবছরের রেকর্ড
২০২৪ সালে জার্মানিতে ইসলামবিরোধী ৩,০৮০টি ঘটনাসংখ্যা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৬০% বেশি। এর মধ্যে মারাত্মক সহিংসতা, মসজিদে আগুন দেয়া এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অগ্রাহ্য করা অন্তর্ভুক্ত। Deutsche WelleEurasia Review
স্পেনে অস্বীকৃতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাঘাত
- জুমিল্লার ইসলামিক উৎসব নিষিদ্ধ
স্পেনের জুমিল্লা শহরে একটি শহুরে পৌরকেন্দ্রে মুসলিম ধর্মীয় অনুষ্ঠান (যেমন ঈদ) পালন নিষিদ্ধ করা হয়, যা স্পষ্টভাবে ইসলামফোবিক প্রবণতা হিসাবে দেখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার তা অবিলম্বে বিপর্যয়মূলক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি হুমকি বলে নিন্দা করে। The GuardianAP News
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামী হিংসা ও বিদ্বেষ
- নিউ ইয়র্কে মুসলিম রাজনীতিবিদকে টার্গেট
একজন মুসলিম রাজনীতিবিদ জোরান মানমান্ডির নির্বাচনী সাফল্য পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে সমন্বিত হেট স্পিচের কারণে বিপুল প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন। ১৩–৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত প্রায় ৬৭০০টি ইসলামফোবিয়া-ভিত্তিক পোস্টের মাধ্যমে এক বিশাল হেট ক্যাম্পেইন ছড়িয়ে পড়ে, যা তাঁর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। TIME
অস্ট্রাক্ট: ইসলামী সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ
- অসলোতে ইসলামফোবিক হত্যাকাণ্ড
২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে নরওয়ের অসলোতে একটি শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মী, “তামিমা নিবরাস জায়ার” নামে এক মুসলিম নারীর উপর হামলা হয়ে সে নিহত হন। হামলার সাথে সম্পর্কিত সন্দেহভাজন ব্যক্তি ‘অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় নয় বরং ইসলামফোবিক’ উদ্দেশ্য নিয়ে এই আক্রমণ চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। Wikipedia
এসব ঘটনা শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের বিপদের কথা তুলে ধরে না, বরং দেখায় ইসলামফোবিয়া কত দ্রুত বাস্তব জীবনে সহিংসতা, ধর্মীয় ক্ষতির ঘটনা ও সামাজিক ভাঙনকে মিশ্রিত করে।
- ইউরোপে, হিংসা, বৈষম্য ও অবহেলা নিত্যনৈমিত্তিক হয়েছে।
- সামাজিক গণমাধ্যমে ইসলাম-সম্পর্কিত বিভাজনমূলক প্রচারণা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করছে।
- অনার্ড ভিত্তিক হামলা থেকে সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে, যা সংখ্যালঘুদের জীবিত নিরাপত্তার সামনে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইসলামফোবিয়া মোকাবিলায় দরকার:
- ধর্মীয় সহনশীলতা ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপ বৃদ্ধি।
- গণমাধ্যমে নিরপেক্ষ ও ইতিবাচক প্রচারণা।
- আন্তর্জাতিকভাবে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ।