তিন দফা দাবিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সহ দেশের সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে, যার কারণে বুয়েটের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন’ বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (২৭ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। সেখান থেকে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষার্থীদের গতিরোধ করলে তারা বাধা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা করে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। জবাবে শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো মূলত প্রকৌশল পেশার মর্যাদা ও নিয়োগ নীতিমালার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের প্রধান তিন দফা দাবি হলো:
১. নিয়োগ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক: সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের নবম গ্রেডের পদে প্রবেশের জন্য সকল প্রার্থীকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোনো ধরনের কোটার মাধ্যমে বা অন্য কোনো নামে সমমান পদ তৈরি করে এই পদে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।
২. উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে উন্মুক্ততা: উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের দশম গ্রেডের পদের নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা ও বিএসসি উভয় ডিগ্রিধারীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. ‘প্রকৌশলী’ পদবির ব্যবহার ও অ্যাক্রিডেশন: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া যারা ‘প্রকৌশলী’ পদবি ব্যবহার করেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে, যেসব বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স বাংলাদেশ প্রকৌশল ইনস্টিটিউট (আইইবি) বা বিএইটিই (বোর্ড অব অ্যাক্রিডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন) কর্তৃক স্বীকৃত নয়, সেগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অ্যাক্রিডেশনের আওতায় আনতে হবে।
প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন মনে করে, এই দাবিগুলো পূরণ হলে পেশাদার প্রকৌশলীদের মর্যাদা সুরক্ষিত হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।